ধ্রুপদি তত্ত্বে ‘রোগ’ বলতে আসলে কী বোঝায় — অর্গাননের কাঠামোটি বুঝুন।
অর্গাননের §৯–১০ সূত্রে হ্যানিম্যান বলেন, সুস্থ অবস্থায় দেহ-মনকে সুসংগতভাবে চালায় এক অন্তর্নিহিত প্রাণশক্তি (ভাইটাল ফোর্স)। রোগ বলতে এই প্রাণশক্তির সুর বিগড়ে যাওয়া, আর যেসব লক্ষণ বাইরে দেখা যায়, সেগুলোই সেই বিঘ্নের প্রকাশ। তাই §৬–৭ অনুযায়ী চিকিৎসকের কাছে রোগ জানার একমাত্র উপায় হলো লক্ষণের সমষ্টি।
§১১-এ তিনি যুক্ত করেন, রোগের কারণ যেমন ‘গতিশীল’ (ডায়নামিক) প্রকৃতির, ঔষধের ক্রিয়াও বিচার হয় সেই গতিশীল স্তরেই। এই কারণেই এই পদ্ধতিতে রোগের নাম বা একটিমাত্র পরীক্ষার ফলের চেয়ে রোগীর সামগ্রিক লক্ষণচিত্র — শারীরিক, মানসিক ও পরিবেশগত মিলিয়ে — বেশি গুরুত্ব পায়।
ব্যবহারিক দিক থেকে এর অর্থ হলো: একই রোগ-নামে ভুগলেও দুজন রোগীর লক্ষণচিত্র আলাদা হলে তাঁদের মূল্যায়ন আলাদা হবে; আবার প্রকাশ্য লক্ষণ পুরোপুরি জানা না গেলে সঠিক সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। এই যুক্তি থেকেই জন্ম নেয় পূর্ণাঙ্গ কেস নেওয়ার (পাঠ ২৩) বিস্তারিত কাঠামো।
মনে রাখা জরুরি: প্রাণশক্তির ধারণা ধ্রুপদি হোমিওপ্যাথির তাত্ত্বিক কাঠামো — আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় বা জরুরি চিকিৎসার বিকল্প নয়। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান ভাবের মতো অবস্থায় প্রথম কাজ হাসপাতালে যাওয়া, তত্ত্ব-আলোচনা নয়।