পদ্ধতির প্রতিষ্ঠাতার জীবন জানলে তাঁর তত্ত্বের পেছনের যুক্তি পরিষ্কার হয়।
ক্রিস্টিয়ান ফ্রিডরিখ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান জন্মগ্রহণ করেন ১৭৫৫ সালের ১০ এপ্রিল, জার্মানির মাইসেন শহরে। লাইপজিগ ও ভিয়েনায় চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ে ১৭৭৯ সালে তিনি ডাক্তারি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি অনেকগুলো ভাষায় পারদর্শী ছিলেন এবং জীবিকার জন্য চিকিৎসা-বই অনুবাদের কাজও করতেন — এই অনুবাদই পরে তাঁর গবেষণার সূত্রপাত ঘটায়।
১৭৯০ সালে স্কটিশ চিকিৎসক কালেনের মেটেরিয়া মেডিকা অনুবাদ করার সময় সিনকোনা ছালের ঔষধি গুণ নিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে। নিজের শরীরে পরীক্ষা করে তিনি যে পর্যবেক্ষণ পান, তা থেকেই ১৭৯৬ সালে হুফেল্যান্ডের জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধে তিনি ‘সদৃশ বিধান’-এর মূল ধারণা প্রথম উপস্থাপন করেন।
১৮১০ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর অমর গ্রন্থ ‘অর্গানন’। ১৮১১ সালে তিনি লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন এবং চারপাশে একদল অনুসারী শিক্ষার্থী গড়ে ওঠে। জীবনের শেষ পর্যায়ে (১৮৩৫) তিনি প্যারিসে যান এবং সেখানে ব্যাপক খ্যাতি পান; ১৮৪৩ সালের ২ জুলাই প্যারিসেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
তাঁর প্রধান অবদান চারটি: সুস্থ শরীরে ঔষধ পরীক্ষার (প্রুভিং) পদ্ধতি, একক ঔষধ ও ন্যূনতম মাত্রার নীতি, ক্রনিক রোগের মিয়াজম-তত্ত্ব এবং ঔষধ প্রস্তুতি ও সংরক্ষণে মান নিয়ন্ত্রণ। তাঁর শিক্ষা গ্রহণের সঠিক ভঙ্গি হলো যাচাই করে, চিন্তা করে গ্রহণ — তিনিও নিজের তত্ত্ব বারবার পরিমার্জন করেছেন, অন্ধ অনুকরণ চাননি।