হ্যানিম্যানের সবচেয়ে আলোচিত তত্ত্বটির সহজ ও সতর্ক পরিচিতি।
১৮২৮ সালে প্রকাশিত ‘ক্রনিক ডিজিজেস’ (দীর্ঘমেয়াদি রোগসমূহ) গ্রন্থে হ্যানিম্যান প্রস্তাব করেন: বহু ক্রনিক রোগের পেছনে কাজ করে তিনটি গভীর প্রবণতা বা ‘মিয়াজম’। দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে তিনি দেখেছিলেন, দৃশ্যমান লক্ষণ সারলেও অনেক রোগীর অসুখ অন্য রূপ নিয়ে ফিরে আসে — এই পুনরাবৃত্তির ব্যাখ্যা খুঁজতেই এই তত্ত্ব।
তিনটি মিয়াজম হলো: সোরা — সবচেয়ে প্রাচীন ও বিস্তৃত, যার সঙ্গে তিনি চুলকানি-প্রধান চর্মরোগের ইতিহাসকে যুক্ত করেন; সাইকোসিস — গনোরিয়া-জাতীয় সংক্রমণের পরবর্তী প্রবণতা, যেখানে আঁচিল-জাতীয় বৃদ্ধি লক্ষণীয়; এবং সিফিলিস — সিফিলিস সংক্রমণের পরবর্তী ধ্বংসাত্মক প্রবণতা। পরবর্তীকালে কেন্টসহ অনেক শিক্ষক এই কাঠামোকে আরও বিস্তার করেন।
তত্ত্বটির ব্যবহার নিয়ে ধ্রুপদি শিক্ষকেরা নিজেরাই সতর্ক করেছেন: মিয়াজম একটি ধারণাগত মানচিত্র, চোখে দেখা রোগ নির্ণয় নয়। শুধু ‘মিয়াজম মিলিয়ে’ ঔষধ বাছাই করা এই শিক্ষার পদ্ধতি নয় — বর্তমান লক্ষণসমষ্টিই প্রতিটি প্রেসক্রিপশনের ভিত্তি, মিয়াজম-চিন্তা সেখানে পটভূমিক সহায়ক মাত্র।
সাধারণ পাঠকের জন্য বার্তা সরল: পুরনো রোগ বারবার ফিরে আসা, পরিবারে একই ধরনের রোগের প্রবণতা — এসব তথ্য চিকিৎসকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস। তাই কেস দিতে গিয়ে অতীতের সব অসুখ ও তার চিকিৎসার কথা গুছিয়ে বলুন; সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দিন।